হাওজা নিউজ এজেন্সি: শিশুর জীবনের প্রথম বছরগুলো থেকেই তার প্রতিপালনে বাবা-মায়ের সময় দেওয়া তার ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি তৈরি করে। ভালোবাসা, যত্ন ও সঠিক শিক্ষা পাওয়ার মাধ্যমে শিশু ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে। এই প্রতিপালন পদ্ধতিতে শিশুর আবেগগত প্রয়োজনের প্রতি যত্নের পাশাপাশি দিকনির্দেশনামূলক তদারকিকেও অপরিহার্য মনে করা হয়েছে।
বর্তমানে সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা হলো, অনেক সময় শিশুদের অতিরিক্ত স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, কিছু বাবা-মা মনে করেন, সন্তানের প্রতিপালনে তাদের বিশেষ কোনো দায়িত্ব নেই; অথবা তারা শিশুকে পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা ও তদারকি ছাড়াই বেড়ে উঠতে দেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, বাবা-মাকে সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হতে হবে কিংবা তার সঙ্গে রূঢ় আচরণ করতে হবে। অযথা কঠোরতাও সঠিক নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাবা-মাকে সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা, তদারকি ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
প্রকৃতপক্ষে, সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার জন্য শিশুর ভালোবাসা, মনোযোগ, শিক্ষা ও যত্ন প্রয়োজন। বাবা-মাকে শিশুর শৈশব থেকেই তার প্রতিপালনে সময় দিতে হবে এবং মনে রাখতে হবে, তাদের আচরণ ও সন্তান প্রতিপালনের পদ্ধতি শিশুর ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে সন্তানের সঠিক প্রতিপালন শুধু পার্থিব জীবনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সন্তানের ভালো কাজ ও সঠিক আচরণ বাবা-মায়ের জন্যও আধ্যাত্মিক কল্যাণের কারণ হতে পারে। তাই সন্তান প্রতিপালন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়।
সুতরাং, বাবা-মাকে একদিকে যেমন সন্তানের আবেগগত ও প্রতিপালন-সংক্রান্ত প্রয়োজনের প্রতি যত্নশীল হতে হবে, অন্যদিকে তার সঠিক প্রতিপালনের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে। শিশুকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়া যেমন সঠিক নয়, তেমনি অতিরিক্ত কঠোরতা ও রূঢ় আচরণও কাম্য নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো—ভালোবাসা, মনোযোগ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিশুকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা।
আপনার কমেন্ট